আপডেট
সভাপতি

শাহ মো: মোসাহীদ আলী এডভোকেট ( সভাপতি )

  • যোগদান: মার্চ ১৯, ২০১৮
  • জন্ম তারিখ: মার্চ ০৩, ১৯৯০
  • রক্তের গ্রুপ: A+
  • যোগ্যতা: Qualification
  • ফোন নম্বর: N/A
  • ইমেইল:
  • ঠিকানা:
  • সভাপতি মহোদয়ের বানী

    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم

    মানব জীবনের প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজের চরিত্র, চিন্তা ও জীবনকে গড়ে তোলায়। একটি নৈতিক, শান্তিময় ও আলোকিত সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষা— যে শিক্ষা মানুষকে শুধু বিদ্যান নয়, বরং মানবিক, সচেতন, দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু বানায়। এই প্রেরণা ও উপলব্ধি থেকেই মুহাম্মদিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

    প্রতিষ্ঠার শুরুর সময়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, অর্থনৈতিক সংকট, জনবল ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম—“নেক নিয়ত ও কল্যাণের কাজ কখনও বিফল হয় না।”

    আলহামদুলিল্লাহ, আজ সেই বিশ্বাসই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত, সমাজের ধর্মপ্রাণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন, শিক্ষকমণ্ডলীর আত্মনিবেদন ও অভিভাবকদের আস্থা— এসবই আমাদের মাদরাসাকে ধীরে ধীরে একটি স্বনামধন্য দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

    আমাদের দর্শন ছিল স্পষ্ট—

    • শুদ্ধ আকিদা ও ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে আলোকিত প্রজন্ম তৈরি করা,
    • হিফজ, কিরাত, তাফসির, ফিকহ ও আরবি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক সাধারণ শিক্ষা নিশ্চিত করা,
    • টেকসই নৈতিকতা ও মানসিক পরিশুদ্ধতা গড়ে তোলা,
    • নেতৃত্বগুণ, সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের চর্চা বাড়ানো,
    • একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, শান্ত, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আদর্শ শিক্ষা–পরিবেশ তৈরি করা।

    আমরা বিশ্বাস করি—

    একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত উন্নতি কেবল পাঠ্য জ্ঞানের মাধ্যমে নয়; বরং চরিত্র, নৈতিকতা, আচার-আচরণ, শিষ্টাচার ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়।তাই আমরা প্রতিটি ছাত্রকে এমনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, যাতে তারা ভবিষ্যতে শুধু একজন সফল মানুষই নয়, বরং একজন আদর্শ নাগরিক, দায়িত্বশীল মুমিন ও জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে।

    আজ মাদরাসার প্রতিটি অগ্রগতি—

    শিক্ষার্থীদের হিফজ সমাপ্তির সাফল্য, পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষক–শিক্ষার্থীর উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ক্যাম্পাস পরিবেশ উন্নয়ন, ডিজিটাল সিস্টেম চালু—এসবই আল্লাহর রহমত, শিক্ষকবৃন্দের ত্যাগ, অভিভাবকদের বিশ্বাস এবং পরিচালনা কমিটির ঐকান্তিক প্রয়াসের ফসল।

    আমি অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের সাথে লক্ষ্য করছি যে— মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তাদের নৈতিকতা, শিষ্টাচার, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সমাজসেবার প্রবল আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবারের, সমাজের ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে। এটাই একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত অর্জন। পরিশেষে, আমি আল্লাহ তায়ালার দরবারে আন্তরিকভাবে দোয়া করি—

    • এই মাদরাসাকে তিনি দ্বীনের খেদমতের মহান কেন্দ্র হিসেবে কবুল করুন,
    • আমাদের শিক্ষার্থীদের কুরআনের আমল ও আকিদার ওপর অবিচল রাখুন,
    • এ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত সকলকে স্বাস্থ্য, তৌফিক, ঈমানি শক্তি ও নেক আমল দান করুন,
    • এবং এ প্রতিষ্ঠান যেন আগামী প্রজন্মের জন্য আলো, শান্তি, সত্য ও জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে— আমিন।
    হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
    লোডিং হচ্ছে...